চীন যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২০০টি বিমান কিনতে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় বোয়িংয়ের শেয়ারের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
এই চুক্তিতে ঠিক কোন ধরনের বিমান সরবরাহ করা হবে এবং কবে তা হস্তান্তর করা হবে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আগে প্রায় ৫০০টি বিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সে তুলনায় ২০০টি বিমান বেশ হতাশাজনক সংখ্যা বোয়িংয়ের জন্য।
শি জিনপিংয়ের প্রসঙ্গে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, 'আজ তিনি একটি বিষয়ে রাজি হয়েছেন, তিনি ২০০টি বিমান অর্ডার করতে যাচ্ছেন... ২০০টি বড় বিমান।'
এ ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে যায়।
সবার নজরে থাকা এই ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকে যেসব বড় ব্যবসায়িক চুক্তির আশা করা হচ্ছিল, তার মধ্যে বোয়িংয়ের এই অর্ডারটি ছিল অন্যতম। এ ছাড়া গত অক্টোবরে হওয়া একটি ভঙ্গুর 'বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি' চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও কথা চলছে। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক স্থগিত করেছিলেন এবং শি জিনপিং বিশ্বে অতিপ্রয়োজনীয় বিরল খনিজের (রেয়ার আর্থ) সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করা থেকে সরে এসেছিলেন।
বোয়িংয়ের চুক্তির পর শেয়ারবাজার বা ওয়াল স্ট্রিটের এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের জন্য আলোচনা চলছিল। পাশাপাশি বৈঠকের পর আরও দামি 'ওয়াইডবডি' বিমানের বড় একটি চালানের অর্ডার পাওয়ারও আশা ছিল।
এদিকে, ইউরোপীয় বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রায় একই মাপের একটি চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল চীন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উড়োজাহাজের বাজার চীনে আধিপত্য বিস্তারে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ২০১০-এর দশকে এয়ারবাস বোয়িংকে পেছনে ফেলে চীনের বাজারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এমনকি তারা তিয়ানজিনে এ-৩২০ বিমানের একটি চূড়ান্ত সংযোজন কারখানাও (ফাইনাল অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট) খোলে।
তবে বিমান ভ্রমণের বিপুল চাহিদা মেটাতে বেইজিংকে উভয় কোম্পানির কাছ থেকেই বিমান কিনতে হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, চীনের এখনই অন্তত এক হাজার নতুন বিমান অর্ডার করা প্রয়োজন। আর বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে চীনের কমপক্ষে ৯ হাজার নতুন যাত্রীবাহী বিমান লাগবে।
এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প যখন বেইজিং সফর করেছিলেন, তখন চীনের কাছ থেকে বোয়িং সর্বশেষ বড় অর্ডার পেয়েছিল। সেবার চীন ৩০০টি বোয়িং বিমান কিনতে রাজি হয়েছিল। এরপর দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে এবং তখন থেকে বোয়িং মাত্র ৫১টি অর্ডার পেয়েছে, যার বেশির ভাগই ছিল কার্গো বা মালবাহী বিমান।
চুক্তি নিশ্চিত করতে বা বিরোধ মেটাতে যেসব আমেরিকান শীর্ষ নির্বাহী ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে গেছেন, তাদের মধ্যে বোয়িংয়ের সিইও কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের সিইও ল্যারি কাল্পও রয়েছেন।
বাণিজ্য আলোচনার সময় অন্যান্য দেশকে বোয়িংয়ের বিমান কেনার জন্য ট্রাম্প বেশ আগ্রাসীভাবেই চাপ দিয়ে থাকেন। অর্টবার্গ গত মাসে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরই ভরসা করছেন।
রয়টার্স
thebgbd.com/BYB